কাটালুনিয়ার স্বায়ত্তশাসন সীমিত করার উদ্যোগ

Advertisement
Advertisement

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সেদেশের সিনেটের কাছে কাটালুনিয়ার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষমতা চেয়েছেন৷ সেই সঙ্গে তিনি এও জানান যে, ঐ অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন বাতিল নয়, শুধুমাত্র আইন ভঙ্গ করা নেতাদের সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি৷

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখোই শনিবার সেদেশের আর্টিকেল ১৫৫ প্রয়োগের ঘোষণা দেন৷ রাখোই বলেন, ‘‘এটা আমাদের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য ছিল না৷ কখনোই ছিল না৷ তবে কোনো গণতান্ত্রিক সরকারই আইন অমাণ্য করাকে প্রশ্রয় দিতে পারে না৷” নজিরবিহীন এই ঘোষণার মাধ্যমে কার্যত কাটালুনিয়ার স্বাধীনতার উদ্যোগে লাগাম টানা হলো৷

রাখোই জানান যে, তিনি সিনেটের কাছে কাটালুনিয়ার সরকার বাতিল করার এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের ক্ষমতা চেয়েছেন৷ সেখানে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আগামী ছ’মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি৷

এছাড়া কাটালুনিয়ার আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীদের উপর ন্যস্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছেন রাখেই। তিনি জানান, এভাবে কাটালুনিয়ার স্বায়ত্তশাসনকে যাঁরা আইনের বাইরে নিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁদের সরিয়ে দেয়া হবে৷

প্রসঙ্গত, স্পেনের সংবিধানের আর্টিকেল ১৫৫-তে কোনো স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল যদি কেন্দ্র সরকারের বেধে দেয়া নিয়মনীতি পালন না করে, তাহলে সেই অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার কথা বলা হয়েছে৷ তবে এটি সাধারণত কোনো সরকারই প্রয়োগ করতে চায় না৷

কাটালুনিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুজদেমন চলতি মাসের শুরুতে স্বাধীনতা ঘোষণার দিকে এগোনোর ঘোষণা দেয়ার পর, স্পেন সরকার আর্টিকেল ১৫৫ প্রয়োগের হুমকি দেয়৷ তবে পুজদেমনকে স্বাধীনতা ঘোষণার পথ পরিহার করতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল৷ কিন্তু এ সময়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি৷ বরং স্পেন আর্টিকেল ১৫৫ প্রয়োগ করলে কাটালুনিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করবে বলেই জানান তিনি৷ স্পেনের প্রধান কৌঁসুলি শনিবার জানিয়েছেন, পুজদেমন সেরকম কিছু করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ৷

উল্লেখ্য, স্পেনের সর্বোচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমাণ্য করে গত পহেলা অক্টোবর স্বাধীনতা সংক্রান্ত এক গণভোটের আয়োজন করে কাটালুনিয়া সরকার৷ আর সেই গণভোটে ৯০ শতাংশ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে দাবি করে সেখানকার নেতারা৷ যদিও মাত্র ৪৩ শতাংশ মানুষ সেই গণভোটে অংশ নিয়েছিলেন৷ স্বাধীনতা ইস্যুতে কাটালুনিয়ায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে৷

সূত্র: এএফপি, ডিপিএ, ডিডব্লিউ