দুর্নীতিগ্রস্ত সব বিশ্বনেতারা

Advertisement

দুর্নীতি, ঘুস ও ক্ষমতার অপব্যবহার৷ চলুন জেনে নেয়া যাক, গত পাঁচ বছরে কোন কোন বিশ্বনেতার বিরুদ্ধে এ সব অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে৷ ডয়চে ভেলের তথ্য অবলম্বনে লিখছেন সাফিয়া আহমেদ

Advertisement

লুইজ ইনাসিও লুলা ডা সিলভা, ব্রাজিল: লুলার বিরুদ্ধে অভিযোগ দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের৷ আলোচিত ‘কার ওয়াশ’ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে এবং একইসঙ্গে ব্রাজিলের এলিটদের মাঝে ঘুসবাণিজ্যের বিস্তারের বিষয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে৷ ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা লুলাকে সাড়ে নয় বছরের জেল দিয়েছে আদালত৷

ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ দে কির্সনের, আর্জেন্টিনা: প্রথমে ফার্স্ট লেডি এবং পরে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট (২০০৭ থেকে ২০১৫) হওয়া ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ কির্শনার ২০১৬ সালে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হন৷ পছন্দের ঠিকাদার কোম্পানিকে সরকারি নির্মাণ কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছেন৷ তিনি রাজনীতিতে ফিরে আসতে চাইছেন৷ কেউ কেউ বলছেন, তিনি এলে এসব অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় খুঁজছেন৷

পার্ক জিউন-হাই, দক্ষিণ কোরিয়া: দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা গণবিক্ষোভের মুখে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পার্ক গুন-শিয়ে দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হন৷ তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ঘুস ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়৷ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে ইমপিচ করা হয়৷

ইহুদ ওলমের, ইসরায়েল: ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ওলমের ২০১৪ সালে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হন৷ ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর জেল হয়৷ অবশ্য পরের বছরেরর জুলাই মাসে ছাড়াও পেয়ে যান৷ জেলে যাওয়া ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে তিনিই প্রথম৷ পরে তাঁকে অনুসরণ করেন বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু৷

আদ্রিয়ান নাসটাসে, রোমানিয়া: তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে ২০১২ সালে এবং এরপর দু’বছরের জন্য জেলও খাটেন৷ রোমানিয়ান রেভোলিউশনের পরের ২৩ বছরে তিনিই প্রথম কোনো সরকার প্রধান, যাঁকে জেলের ভাত খেতে হয়েছে৷ আদ্রিয়ান নাসটাসে রোমানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত৷

চার্লস জি. টেলর, লাইবেরিয়া: নব্বইয়ের দশকে সিয়েরা লিওনের গৃহযুদ্ধের সময় নৃশংস কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁকে ২০১২ সালে ৫০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত৷ ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের পর প্রথম আন্তর্জাতিক কোনো ট্রাইব্যুনালে বিচার হওয়া কোনো রাষ্ট্রপ্রধান টেলর৷ ১৯৯৭ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন৷

সাফিয়া আহমেদ-এর আরও প্রতিবেদন পড়তে এখানে ক্লিক করুন