ছাতকে স্ত্রীর মামলায় ৯ মাসেও গ্রেফতার হয়নি স্বামী

Advertisement
Advertisement

শামীম আহমদ তালুকদার ছাতক(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ছাতকে যৌতুক লোভি স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন খালেদা নামের এক গৃহবধূ। মামলা দায়েরের প্রায় ৯মাস অতিবাহিত হলেও আসামি আজো ধরাছুঁয়ার বাহিরে রয়ে গেছে। জোরপূর্বক তুলে নেয়া দু’নাবালক শিশুকেও উদ্ধার করতে পারছে না পুলিশ। এতে ন্যায় বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন মামলার বাদি ও তার পরিবারের লোকজন। জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের তেঘরি নোয়াগাঁও গ্রামের আরজ আলীর কন্যা খালেদা আক্তারকে ২০১০ সালের ২৭ আগষ্ট ইসলামি শরিয়া বিধান অনুযায়ি এক লক্ষ টাকা দেনমোহরে কাবিন রেজিষ্ট্রিমূলে বিয়ে দেয়া হয় ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার ছাতারটিয়া গ্রামের আবদুর রহিমের পুত্র চান মিয়ার সাথে। সে বর্তমানে নরসিংদি জেলার মধাবদী উপজেলার ছিতলবাড়ি মোড় চকবাড়ি এলাকার পারুলের বোন আমেনার বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছে। বিয়ের পর তারা আখিঁ বেগম নামের ৬বছর একটি কন্যা ও মোস্তাকিন আহমদ নামের ১৫মাস বয়সি এক পুত্র সন্তানের জনক-জননী হয়। দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়ার পর থেকে যৌতুক লোভি স্বামীর আসল রংঙ পাল্টে যায়। পিতার কাছ থেকে ব্যবসার জন্য ৫০হাজার টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করে। এতে দাবিকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে স্ত্রীকে মারপিট ও নির্যাতন করে সন্তানসহ তাকে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়। দাবিকৃত টাকা দেয়া না হলে অন্য মেয়েকে বিয়ে করারও হুমকি দেয় যৌতুক লোভি স্বামী। এ ঘটনার কিছুদিন পর দাবিকৃত টাকা না পেয়ে শশুর বাড়িতে এসে স্ত্রীকে নির্যাতন করে সন্তানদেরও জোরপূর্বক নিয়ে যায় জামাতা চান মিয়া। এ ব্যাপারে স্ত্রী খালেদা আক্তার বাদি হয়ে যৌতুক লোভি স্বামীর বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ আমলগ্রহণকারি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং-৪৫/১৭ দায়ের করেন। এ মামলা দায়েরের পর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এদিকে জোরপূর্বক নাবালক সন্তানদের তুলে নিয়ে অমানবিক ভাবে জিম্মি অবস্থায় রাখা হয়েছে । জিম্মিদশা থেকে শিশু দু’টিকে উদ্ধার করে আইনগত অভিভাবক হিসেবে মায়ের কূলে ফিরে দিতে জোর দাবি জানিয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত, ছাতক সুনামগঞ্জে অপর বিবিধ মামলা (নং-১৫/২০১৭ইং) দায়ের করেন ওই গৃহবধূ খালেদা। মামলায় তিনি ভিকটিম ও শিশু সন্তানকে সার্চ ওয়ারেন্ট দিয়ে আসামির জিম্মিদশা থেকে উদ্ধারের আদেশ প্রার্থী হন। এব্যাপারে নির্যাতিত খালেদা আক্তার জানান, যৌতুক লোভি, মাদকসেবি স্বামী চান মিয়ার নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন কিন্তু সেখানের পুলিশ ওই আসামিকে গ্রেফতার করছে না। এদিকে নাবালক শিশূ দু’টিকে উদ্ধারেরও কোন অগ্রগতি নেই। সন্তানদেও আটকে রেখে পাষন্ড স্বামী অমানবিক ভাবে অচরণ করছে। আটক মেয়ে মোবাইল ফোনে পিতা কর্তৃক কষ্ট দেয়ার কথা বলেছে এবং সেখান থেকে তাকে ও তার ভাইকে উদ্ধারেরও অনুরোধ করেছে। পিত্রালয়ে মানবেতর জীবন-যাপনকারি গৃহবধূ খালেদা আক্তার দ্রুত আসামিকে গ্রেফতার করে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি ও সন্তানদের উদ্ধার করে তার কাছে ফিরে দিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। এ ব্যাপারে মামলা পরিচালনাকারি এডভোকেট আবদুল জলিল জানান, আদালতে দায়েরি সিআর মামলা (নং-৪৫/১৭) প্রেক্ষিতে আসামি চান মিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ৪মাস আগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।