আপনার স্বামী বা স্ত্রী যদি হাসি-খুশি আর সুখী হয় তাহলে যে শুধু জীবন সুন্দর হয় তা-ই নয়, সুখী জীবনসঙ্গীর প্রভাবে আপনার আয়ুও বাড়তে পারে৷ নেদারল্যান্ডসের এক সমীক্ষা সে-কথাই জানাচ্ছে৷

অর্থহীন জীবন: একজন স্বামী বা জীবনসঙ্গী বাড়ি ফিরেই সোফায় গা এলিয়ে দিলেন, কিংবা ধূমপান শুরু করলেন৷ তাঁর রান্না বা অন্য কোনো কাজে কোনো আগ্রহ নেই৷ মন খারাপ নিয়ে নিজের মতো করে থাকেন৷ এক্ষেত্রে ধরে নেয়া যায়, তিনি সুখী নন৷ তাঁর পেশা, বন্ধু-বান্ধব, অর্থাৎ তাঁর কাছে জীবনের সবকিছুই অর্থহীন মনে হয়৷

সুখী মানুষ: কারো কারো আবার সবই ভালো লাগে৷ হোক তা চাকরি, ঘোরাফেরা বা নতুন কিছু করা– সবকিছুই তাঁদের ভালো লাগে, সব কিছুতেই আনন্দ পায়৷ আসলে একজন মানুষ যদি এরকম সুখী এবং ইতিবাচক চিন্তার হয়, তাহলে তাঁর জীবনসঙ্গীও ভালো বোধ করে, সুখে থাকে৷

জীবনসঙ্গীর প্রভাব: একজন সুখী মানুষ নিজে যেমন ভালো থাকেন, তেমনি তাঁর পার্টনারকেও ভালো রাখার চেষ্টা করেন এবং স্বাভাবিকভাবে তিনিও শারীরিক এবং মানসিক দিক দিয়ে ভালো থাকেন৷ অর্থাৎ, সুখী মানুষের ইতিবাচক দিকগুলোর প্রভাব তার জীবনসঙ্গীর ওপর পড়ে৷ ফলে তিনিও ভালো থাকেন৷ আর তার মধ্য দিয়ে তিনি দীর্ঘজীবন লাভ করতে পারেন৷

গবেষণার ফলাফল: আর সে-কথাই জানা যায় নেদারল্যান্ডসের টিলবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা থেকে৷গবেষণায় জানা যায়, সুখ এবং মানসিক শান্তির এতটাই প্রভাব যে, একজন সুখী মানুষ তাঁর জীবনসঙ্গীর আয়ু বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে৷

তবে যদি উল্টোটা হয়: ‘‘আমি আমার মতো আর তুমি তোমার মতো থাকো’’ অনেক দম্পতির মধ্যে এমন সম্পর্কও আছে৷ অর্থাৎ, যে যার ইচ্ছেমতো চলে এবং মনোকষ্টে ভোগে৷ তবে এর সমাধান আছে ৷

সমাধানের প্রথম পদক্ষেপ: ‘‘প্রথমেই ‘তুমি’ আর ‘আমি’ বাদ দিতে হবে’’, বলেন মনোবিজ্ঞানী ও দম্পতি-থেরাপিস্ট হ্যান্স-জর্জ লাউয়ার৷বিষয়টি যদিও খুব সহজ নয়৷ তারপরও প্রেমের সম্পর্কগুলিতে একে-অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হবে, একে অন্যকে অনুভব করবে, এমনটাই আশা করা হয়ে থাকে৷

একজনের যখন মন খারাপ থাকে আরেকজন যদি তা বোঝে এবং মেনে চলে, তাহলে সম্পর্ক অনেকটাই সহজ হতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞ লাউরার৷

ভিন্ন পরিস্থিতি: গতকাল সবকিছু ঠিক ছিল, আজ সব উলটপালট মনে হচ্ছে কেন? এমনটাও হয়ে থাকে৷ তবে এসব পরিস্থিতে খোলাখুলি কথা বলা উচিত৷ তাছাড়া ভালোবাসার দু’জন মানুষ কে কেমন পরিবার বা মা-বাবার কাছ থেকে কি দেখেছে বা শুনেছে, সেটাও ভাববার বিষয় বৈকি!

‘ডিপ্রেশন’ সুখী না হওয়ার অন্যতম কারণ: জার্মানিতে ১৮ থেকে ৭৯ বছর বয়সিদের মধ্যে বছরে দুই থেকে তিনবার ৫ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ ডিপ্রেশনে ভোগে৷ এদের মধ্যে শতকরা ৮৪ জন খুব তাড়াতাড়িই আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে৷

তবে শতকরা ৪৫ জন তাঁদের পার্টনারের কাছ থেকে দূরে সরে যায়৷ আর শতকরা ৭২ জন নিজেদের বন্ধনমুক্ত মনে করেন৷ ডিপ্রেশনের এই তথ্যগুলো প্রকাশ করেছে জার্মানির ডিপ্রেশন এইড ফাউন্ডেশন৷

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: যাঁদের ভালোবাসার সম্পর্কে সবসময়ই একটা অসন্তুষ্টি কাজ করে, সেখানে সুখী হওয়া খুব কঠিন৷ তবে এসব ক্ষেত্রে পরিবার বিষয়ক এক্সপার্টদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন লাউরার৷ সুখের জন্য চেষ্টা করা যায় এবং একে অপরকে সুখী করে দীর্ঘজীবন লাভ করাও সম্ভব৷ আর সেটা কে-ই বা না চায়?