মোল্লা বাবুল: প্রয়াত গুণী অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদীর ৬৭তম জন্মদিন আজ। ১৯৫২ সালের এই দিনেই পৃথিবীতে আগমন ঘটেছিলো প্রখ্যাত এই অভিনেতার।

তিনি অভিনয়ের সকল ক্ষেত্রে অভাবনীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। বাংলাদেশের নাটক সিনেমার উজ্জলতম নক্ষত্র তিনি।

মঞ্চ থেকে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু তার। এরপর ছোটপর্দা কিংবা বড়পর্দা সব জায়গায় ছড়িয়েছেন তার গুণের মুঠো মুঠো সোনা। নান্দনিক অভিনয় নৈপুণ্যে হয়ে ওঠেন গুণী একজন অভিনেতা।

অভিনয়গুণে কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এক কথায় অসাধারণ অভিনয়শিল্পী হৃমায়ুন ফরিদী।

হুমায়ুন ফরীদির অভিনয়ের শুরুটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলে থাকতেন এ অভিনেতা। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় নাট্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নাট্যচার্য সেলিম আল দীনের নজরে পড়েন তিনি। এরপর যুক্ত হন ঢাকা থিয়েটারের নাট্যচর্চার সঙ্গে।হুমায়ুন ফরীদি

ঢাকা থিয়েটারের হয়ে মঞ্চে অভিনয় করেন কিত্তনখোলা, মুন্তাসির ফ্যান্টাসি, কেরামত মঙ্গল, ধূর্ত উই প্রভৃতি নাটকে। কেরামত মঙ্গল নাটকে কেরামত চরিত্রে হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় এখনও আলোচিত হয় ঢাকার মঞ্চে।

টিভি নাটকে হুমায়ুন ফরীদি আলোচনায় আসেন শহিদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস অবলম্বনে আবদুল্লাহ আল মামুন নির্মিত ‘সংশপ্তক’ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে।

নাটকটিতে কানকাটা রমজান চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ প্রশংসা অর্জন করেন হুমায়ুন ফরীদি। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি ছোটপর্দায় সাফল্যের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। ২০১২ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন।

হুমায়ুন ফরীদির অভিনীত নাটকের মধ্যে আশির দশকে সেলিম আল দীনের রচনা ও নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর নির্দেশনা পরিচালনায় ধারাবহিক নাটক ‘ভাঙ্গনের শব্দ শুনি’ (১৯৮৩)। এই নাটকে ফরিদীকে দেখা যায় “সেরাজ তালুকদার” টুপি দাড়িওয়ালা শয়তানের এক জীবন্ত মূর্তি রূপে।

‘আরে আমি তো জমি কিনি না, পানি কিনি, পানি’, ‘দুধ দিয়া খাইবা না পানি দিয়া খাইবা বাজান’- এরপর শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সংশপ্তক’ (১৯৮৭-৮৮) – এ ‘কান কাটা রমজান’ চরিত্র – হুমায়ুন ফরীদির অভিনীত নাটকের মধ্যে সবচাইতে প্রিয় এবং উল্লেখযোগ্য!

আশির দশকে বিটিভি’র এই দুই চরিত্রে-ফরিদীর অপ্রতিদ্বন্দ্বী অনবদ্য অভিনয়ের কথা কি ভোলা যায়? অসম্ভব! কেউ কি ভুলতে পারে? না! তা ভুলার নয়!

এখনো চোখ মুদলে তাঁর অট্টহাসিতে কাঁচ ভাঙার শব্দ শুনি। বিস্ময় জাগানিয়া অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী এখনো আমাদের ঘোরের মধ্যে নিয়ে যান। এমন ক্ষমতা ক’জনের আছে, ক’জনের থাকে।

ফরিদী নাই। হুমায়ুন ফরিদী নাই। তবে তিনি ঠাঁই নিয়েছেন আমাদের কোটি ভক্তের হৃদয়ে, মগজে। ফরিদী আছেন পৃথিবীর সব নাট্যমঞ্চের ড্রেসিং রুমে, পাটাতনে আছেন রূপোলি পর্দার আড়ালে, থাকবেন অনন্তকাল।

আজ তাঁর ৬৭তম জন্মদিন উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধার সাথে এই খ্যাতিমান অভিনেতার স্মৃতির কথা স্মরণ করছি এবং এই মহান শিল্পীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।