গেল বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। তবে তা ভেঙে তাকে ঘরের মাঠে শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে খেলার আহ্বান জানানো হয়।

দুই সিরিজ দেখেই ওকে বিশ্বকাপের জন্য বিবেচনা করতে চেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড (সিএসএ)। কিন্তু সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ও পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নাম লিখিয়েছিলেন তিনি।

এক বিবৃতিতে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার প্রধান নির্বাচক লিন্ডা জন্ডি বলেন, বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার। শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু সে সেটি না করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান লিগে সই করে। আমাদের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। সাফ জানায়, তার অবসরের সিদ্ধান্ত সঠিক। এতে খুশি ও।

সদ্য বোমা ফেটেছে। চাউর হয়েছে- অবসর ভেঙে ক্রিকেটে ফিরতে চেয়েছিলেন এবি। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এবার বিশ্বকাপ খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট তার সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি। এর ঘোর বিরোধিতা করেন প্রোটিয়া দলের প্রধান নির্বাচক লিন্ডা জন্ডি, কোচ ওটিস গিবসন ও অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। তাদের বাধায় ফের বিশ্বমঞ্চে পারফরমের সুযোগ বঞ্চিত হন ডি ভিলিয়ার্স।

লিন্ডা জন্ডি বলেন, ভিলিয়ার্সকে বিশ্বকাপের জন্য তরতাজা রাখতে মৌসুম ধরে খেলার উপায় বাতলে দিয়েছিলাম আমরা। লম্বা সময় ধরে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে অনুপস্থিত ছিল সে। ফিরতে হলে এতে নিজেকে ফের প্রমাণ করতে হতো তাকে। কিন্তু ও সেটি করেনি।

উপরন্তু নিজ দুর্গে শ্রীলংকা-পাকিস্তান সিরিজে ওকে খেলার কথা বলা হয়। সেটিও পছন্দ হয়নি তার। এর পরও ওকে দলে নেয়া যায় কীভাবে? এ অবস্থায় তাকে দলে নিলে পুরো টিমে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারত। সবাই জানেন, ২০১৮ সালে অবসর না নেয়ার জন্য এবির সঙ্গে আমরা জোরাজুরি করেছিলাম। বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান তাতে পাত্তা দেয়নি।

চলতি বিশ্বকাপটা যাচ্চেতাই যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার। ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও ভারতের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক পরাজয়ে নাজুক অবস্থায় প্রোটিয়ারা। বলা বাহুল্য, ডি ভিলিয়ার্স থাকলে তাদের শক্তিমত্তা বাড়ত বৈকি।

৩৫ বছর বয়সী ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও বিশ্বের সব জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে চষে বেড়াচ্ছেন। অবসর নেয়ার পর নিজের সিদ্ধান্তকে বরাবরই সঠিক বলে দাবি করে আসছিলেন তিনি।

তথ্যসূত্র: ক্রিকবাজ/ইএসপিএন ক্রিকইনফো