বাউফলের বগা ইউনিয়নে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ১০ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছেন গ্রাম্য মাতবররা। একই সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানালে ভয়ানক পরিণতির হুমকিও দিয়েছেন তারা। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে বগা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের কোডন মোল্লার ছেলে সাকিব মোল্লা (২০) ঈদ উপলক্ষে ফেরি করে মেহেদি বিক্রি করতে ওই স্কুলছাত্রীর গ্রামে যায়। তার সঙ্গে খলিল মোল্লা নামের এক সহযোগী ছিল।

বিকেল ৫টার দিকে ওই শিশু গরু আনতে বাড়ির পাশের মাঠে যায়। ওই সময় সাকিব ও খলিল শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে পাশে একটি খড়ের গাদার পাশে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোর করে ধর্ষণ করে সাকিব। ঘটনার পরপরই শিশুটি বিষয়টি বাড়িতে জানায়। ওই দিনই শিশুটির বাবা স্থানীয় ইউপি সদস্য খোরশেদ মিয়ার কাছে বিচার দেন।

ইউপি সদস্য খোরশেদ মিয়ার নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক করে সাকিবকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানালে ভয়াবহ পরিণতি হবে বলে শিশুটির পরিবারকে হুমকি দেন মাতবররা। পরে অভিযুক্ত সাকিব সালিশে ১০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরে দেওয়ার কথা জানায়। কিন্তু কয়েক দিনেও বাকি টাকা শোধ করেনি। তবে এরই মধ্যে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার ওই ছাত্রীর বাবা মেয়েকে নিয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। তবে বগা ইউনিয়নের ইউপি মেম্বার খোরশেদ মিয়া বলেন, মেয়েটির সঙ্গে কথা বলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণেই সাকিবকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তবে ধর্ষণের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বাউফল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়ে মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।