মানিকগঞ্জে পুলিশে চাকুরি পেলেন হতদরিদ্ররা

508
পুলিশে চাকরি

সালাউদ্দিন রিপন, মানিকগঞ্জ: বাবা স্বপন রায় নরসুন্দরের কাজ করে। গ্রামের ছোট্ট একটি বাজারে ভাড়া দোকানে রয়েছে সেলুন। সেই সেলুনের আয় দিয়েই কোন রকমে তাদের সংসার চলে। কোনদিন ভাবেননি পুলিশের চাকুরি পাবেন উৎকোচ ছাড়াই।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের ১৩১ জন কনষ্টেবল পদে চাকুরি হয়। এদের মধ্যে সুব্রত কুমার রায় একজন। পুলিশের চাকুরি পেয়ে এভাবেই তার মনোভাব প্রকাশ করে। সুব্রত রায়ের মতো কামার, জেলে, কৃষক, দিনমুজুর, ভ্যানচালক, দর্জি, পিতৃহীন সন্তানদের এবার মানিকগঞ্জে পুলিশে চাকুরি হয়েছে।

চাকুরি পাওয়া শিবালয় উপজেলা আরিচার পপি আক্তার জানান, তার বাবা আশেক আলী একজন ভ্যান চালক। দুই বোন ১ ভাই রয়েছে। ভ্যান চালিয়ে তার বাবা অনেক কষ্ঠে সংসার চালান। মাত্র একশ তিন টাকা খরচ করে তার পুলিশের চাকুরি হয়েছে।

চাকুরি পাওয়া ঘিওর উপজেলার পেচারকান্দা গ্রামের সুমি আক্তার জানান, তার বাবা কৃষি কাজ করতো। এখন পক্ষাঘাত হয়ে ঘরে পড়ে আছে। বাবার স্বপ্ন ছিল পুলিশের চাকুরি পাওয়ার । বিনে পয়সায় কোন তদ্বির ছাড়াই আজ সেই স্বপ্ন সত্য হয়েছে।

বকুল আক্তারের বাবা ছোট বেলায় তাদের ছেড়ে চলে গেছে। বড় বোনের সংসারের থেকে এখন জগনাথ বিশ^ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে। পুলিশ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেন। পরীক্ষায় সে প্রথম হয়েছে। তার ধারনা ছিল মেধায় চাকুরি হয় না। কিন্তু মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম তার ধারনা পাল্টে দিয়েছে।

চাকুরির বিষয়টি চুড়ান্ত নিশ্চিত হওয়ার পর মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইনে মাকে জড়িয়ে কান্না করছিল রুনা আক্তার। মা রৌশনারা বিলাপ করে বলছে তোমার মেয়ের পুলিশে চাকুরি হয়েছে তুমি দেখে গেলে না। রুনা আক্তার জানান, তার বাবা কৃষি কাজ করতো গত বছর মারা গেছে। বাবার স্বপ্ন্ ছিল আমি পুলিশের চাকুরি করবো। বাবার সেই স্বপ্ন্ সত্য হয়েছে। কিন্তু বাবা আজ বেচে নেই।

মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, পুলিশের কনষ্টেবল পদে নিয়োগের জন্য ২৯০৯ জন আবেদন করেছিল। এদের মধ্যে বাছাইতে লিখিত পরীক্ষায় মনোনিত হয় ৯৫৯ জন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয় ২২৩ জন। চুরান্ত ভাবে নিয়োগ পান ১৩১ জন। এদের মধ্যে ৮৯ জন পুরুষ ও ৪২ জন নারী। যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সদস্য।