ধর্ষণ প্রতিরোধে আরও কঠিন আইন প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী

1046

ধর্ষণ প্রতিরোধ চলমান আইন আরও কঠোর করার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের আইনটা আরও কঠোর করা দরকার এবং আরও কঠোরভাবে তাদের শাস্তি দেওয়া দরকার। কারণ এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ কখনো মেনে নেয়া যায় না।

বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শিশু ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন নিয়ে বিরোধী দলীয় সংসদ উপনেতা রওশন এরশাদ বলেন, শিশু ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হচ্ছে। এটা মহামারি আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়। নুসরাতের মতো মেয়েদের যদি জীবন দিতে হয়, তাহলে এটা জাতির জন্য লজ্জার ব্যাপার। ইদানিং এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আগে এই পরিস্থিতি ছিল না। এ ধরনের অপরাধের সাথে জড়িতদের সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। আমরা আমাদের শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে চাই।

বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কিছু সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বেড়ে গেছে। শিশুদের ওপর পাশবিক অত্যাচার বা কথায় কথায় মানুষ খুন করা। ছোট শিশুদের খুন করা। একটা ঘটনা যখন হয় পত্রিকায় এটা নিউজ হয় তখন যেন এগুলো আরও বেশি বৃদ্ধি পায়।’

এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত সকলের উদ্দেশে সংসদ নেতা বলেন, ‘আমাদের মিডিয়ায় যারা আছে তারা যেন এই ধর্ষকদের চেহারা বারবার দেখান। কারণ তাদের যেন একটা লজ্জা হয়।’

ধর্ষণ প্রবণতার মতো সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ প্রচলিত আইনের প্রয়োগ আরও কঠোর হওয়া উচিত বলে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আইনটা আরও কঠোর করা দরকার এবং আরও কঠোরভাবে তাদের শাস্তি দেয়া দরকার। কারণ এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ এটা কখনো মেনে নেয়া যায় না।

একইসঙ্গে পুরুষ সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘সেই সঙ্গে বলব, আমরা শুধু মেয়েরাই প্রতিবাদ করব কেন? এখানে পুরুষ সম্প্রদায় তাদের জন্য লজ্জার বিষয় যে, এই পুরুষরাই অপরাধটা করে যাচ্ছে। সে জন্য আমাদের পুরুষ সম্প্রদায়কেও আরও সোচ্চার হতে বলে মনে করি।’

আর এই ব্যাপারে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।